ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ‘মাদার অফ অল চুক্তি করেছে ভারত। সেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের মাথায় হাত! ঢাকার অর্থনীতির বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ২৭ দেশের সঙ্গে নয়াদিল্লির এই সমঝোতায় বড় ধাক্কা খেতে পারে ঢাকার বস্ত্রশিল্প। আগামী দিনে বাংলাদেশের ১০ লক্ষের বেশি শ্রমিকের কাজ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের একাংশের অর্থনীতিবিদরা। এই পরিস্থিতিতে ‘পেট বাঁচাতে’ অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন সেখানকার মিলমালিকদের একাংশ।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ঢাকায় সাংবাদিক বৈঠক করে ইউনূসের উপর চাপ বাড়িয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সাইল মিল্স অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে বস্ত্রশিল্প বাঁচাতে অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি করেছিল তারা। বিনা শুল্কে ভারত থেকে সুতো ও কাপড়ের আমদানি বন্ধ করতে হবে বলে দাবি জানায় তারা। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের খরচে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানায় তারা। ব্যাঙ্কের সুদের হার কমানোর আর্জি করা হয়। কিন্তু ইউনূস সরকার তাদের দাবি নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছুই বলে নি।
বিটিএমএ-র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের কথায়, সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে দেশের বস্ত্রশিল্প। বাংলাদেশের বাজার দখল করে ফেলেছে সস্তার ভারতীয় সুতো ও কাপড়। ফলে নষ্ট হচ্ছে ১২ হাজার ৫০০ কোটি মূল্যের ঘরোয়া মিলের পোশাক তৈরির কাঁচামাল। এর জেরে শিল্পপতিদের যে বিপুল লোকসান হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
বিষয়টিতে অবিলম্বে ইউনূসের অন্তর্বর্তিকালীন সরকার হস্তক্ষেপ করুক, চাইছে মিলমালিকদের এই সংগঠন।
বিটিএমএ-র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের কথায়, ‘‘জাতীয় সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে দেশের বস্ত্রশিল্প। আমাদের বাজার দখল করে ফেলেছে সস্তা দরের ভারতীয় সুতো ও কাপড়। ফলে গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ১২ হাজার ৫০০ কোটি বাংলাদেশি টাকা মূল্যের ঘরোয়া মিলের পোশাক তৈরির কাঁচামাল।
ভারতীয় সুতোর উপর ট্যাক্স বসালে, পাল্টা পদক্ষেপ করবে দিল্লি। প্রতিশোধ নিতে নেপাল থেকে যাওয়া বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে পারে ভারত। অন্যদিকে ভারত থেকেও বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে দিল্লি। তাহলে বাংলাদেশের শিল্পের আরো ক্ষতি হবে। অন্যদিকে গরমে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হবে ঢাকা। তাই এই বিষয়ে ইউনূস পদক্ষেপ করার আগে চারবার ভাবছেন।
