এস বাবু: বাংলাদেশ গাধার পশ্চাতে ক্রমেই নিজের জায়গা করছে। নির্বাচন নামক প্রহসনটি হতে চলেছে ১২ ফেব্রুয়ারি। হবে কিনা জানা নেই। তবে জামাত ও তাদের সহচর জুলাই তান্ডবীদের জেতানোর জন্যে ইউনুস বদ্ধ পরিকর। চট্টগ্রাম বন্দর বেচে দিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে পাওয়া ৭৮৪ কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে এই জামাতদের জেতানোর প্রকল্পে। ওদিকে চট্টগ্রাম বন্দর যেখান দিয়ে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ আমদানি রফতানি হত সেখানে কর্মবিরতি চলছে গত ছ’দিন। আন্দোলনে নেমেছে সরকারি কর্মচারীরা তাদের বর্ধিত বেতনের দাবীতে।বলতে গেলে কোষাগার একেবারেই শূন্য ।
১২ জন উপদেষ্টার ৮ জনের পরিবার ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি দেশ ছেড়েছেন। ৯ জন উপদেষ্টা জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা ১২ তারিখের পর কোনভাবেই অফিসে যাবেন না। পুলিশের আইজি লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে ১৩ তারিখ রাত বা ১৪ তারিখ খুব ভোরের সম্ভবত বিমানের টিকিট কেটেছেন বিদেশ যাওয়ার জন্যে। ইউনুসকে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার জন্যে প্রেসিডেন্টের কাছে তদ্বির করেছেন হিলারি ক্লিনটন। ৯ সদস্যের কমনওয়েলথ টিম বাংলাদেশ সফরে এসে স্পষ্ট বলেছেন যে কোন দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলবে না।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম চলে গেছেন লাহোর। আইসিসি’কে ম্যানেজ করে যদি অর্থ সাহায্যের ওপরে কোপ না পড়ে। পাকিস্তান নাচাচ্ছে, আর তিনিও নাচছেন। পাকিস্তান ভারতের ম্যাচ হবেই। নাহলে ক্রিকেট বিশ্ব থেকে মুছে যাবে পাকিস্তান। পাকিস্তান তাই তিন শর্তে খেলতে রাজী বলে খবর এসেছে। কিন্তু শর্তগুলি স্পষ্ট নয়। টাকাপয়সা ভিক্ষা বাড়ানোর আবদার হয়ত ফেলবে না আইসিসি। বাংলাদেশকেও হয়ত বঞ্চিত করবে না। কিন্তু আমিনুল ইসলাম বুলবুল যে বেইজ্জতির গাড্ডায় পড়লেন আসিফ নজরুলের বুদ্ধিতে সেখান থেকে বেরোতে তার মসীহা হতে পারে একমাত্র ভারত,নতুবা নয়।
অনেকেই জানতে চান যে ভারত বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে কী দৃষ্টিতে দেখছেন? সরকারি ভাষ্য না এলেও এককথায় বলা যায় যে, শতাব্দীর বৃহত্তম প্রহসন হিসেবেই দেখছে এই নির্বাচনকে। টি২০ ইস্যুতেই বোঝা উচিৎ যে ভারত বাংলাদেশের প্রতি কী মনোভাব পোষন করে। আওয়ামী লীগহীন নির্বাচনকে ভারত গনতান্ত্রিক চর্চা হিসেবে কখনই মেনে নেবে না। কাজেই ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ বড়জোর বজায় থাকবে। বাকি বোঝাপড়া বিশ বাঁও জলে। সে গঙ্গা চুক্তি হোক বা ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি হোক। ওদিকে আদানির সাথে চুক্তি অনুসারে তাদের পাওয়া প্রায় ৫৭ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা যা বাংলাদেশ দিতে পারছে না। কাজেই বিদ্যুৎ সরবরাহ যে কোন সময় বন্ধ হতে পারে। উঠতে পারে ফ্রি গ্রিড ব্যবহারের সুবিধা। তাই চূড়ান্ত প্যাঁচে পড়েছে বাংলাদেশ। নির্বাচন হবে কিনা সন্দেহ আছে, যদি হয় এবং জামাত ক্ষমতায় আসে, তাহলে অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ।
