মেঘ মালা চন্দ্র: বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমন এক অন্ধকারে ঢুকেছে, যেখানে আদর্শ আর মতাদর্শ নয়—ভয়, ভাঁওতা আর কৌশলী মিথ্যাই প্রধান অস্ত্র। ২০২৬ সালের ১২ ই ফেব্রুয়ার তথাকথিত ‘জাতীয় নির্বাচন’ সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের ভোটারদের দিকে যেভাবে হা করে ঝাঁপাচ্ছে, তাতে এটি আর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নেই; আছে পরিকল্পিত চাপ, ভয়ভীতি আর নৈতিক ব্ল্যাকমেইলের সমন্বিত অভিযান।
বিএনপি এই খেলায় নেমেছে সবচেয়ে বেশি শব্দ ছুড়ে। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা—সবই এখন তাদের মুখে মুখে, কিন্তু সবই শর্তসাপেক্ষ। মাঠে বার্তা পরিষ্কার: “আমাদের ছায়ায় থাকলে নিরাপদ, না থাকলে অনিশ্চিত।” আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের কেউ আশ্রয় পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে ইঙ্গিত—ভোট দিলে স্বস্তি, না দিলে ঝামেলা। ইতিহাসকে পুঁজি করে তারা ভয়কে স্বাভাবিক করে তুলছে, আর সেই ভয় দিয়েই ভোট টানার চেষ্টা চলছে।
জামায়াত আরও নীরব, আরও কৌশলী। প্রকাশ্যে নম্রতা, আড়ালে হিসাব। সহানুভূতির ভাষা, ক্ষমার বুলি, গোপন সহায়তা—সবই চলছে, কিন্তু তার নিচে চাপের সূক্ষ্ম স্রোত। ধর্মীয় আবেগকে নরমভাবে নাড়িয়ে, সামাজিক নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তারা আওয়ামী ঘরানার ভোটারদের সামনে বিকল্প নয়, বাধ্যবাধকতা হাজির করছে। ‘ভোট দাও, না হলে একা পড়ে যাবে’—এই অঘোষিত বার্তাই তাদের প্রধান হাতিয়ার।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা নির্বিকার দর্শক। সংস্কারের বুলি তিনি আওড়ান, কিন্তু মাঠে ভয়ভীতির রাজনীতি চললেও তার দপ্তর নীরব। আর নির্বাচন কমিশন? তারা কেবল উপস্থিতির সনদ—যেখানে ভয় দিয়ে ভোট টানার মহড়া চলছে, সেখানে কমিশন কাগজে কলমে নিরপেক্ষতার অভিনয় করছে। বাস্তবে তারা এই দখলদারির খেলায় নীরব অনুমোদন দিচ্ছে।
ফলে ভোটার আজ আর নাগরিক নয়—সে টার্গেট। তাকে বোঝানো হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে, কৌশলে ঘেরাও করা হচ্ছে। এই নির্বাচন কোনো পছন্দের উৎসব নয়; এটি ভয়কে স্বাভাবিক করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার আয়োজন। ইতিহাস এই অধ্যায় মনে রাখবে—যেখানে ভোট নেওয়া হয়নি, ভোট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; আর রাষ্ট্রযন্ত্র নীরবে দাঁড়িয়ে সেই ছিনতাইয়ের পাহারা দিয়েছে।
