নিজস্ব প্রতিবেদন: ১৯৭২ সালে চিত্তরঞ্জন সাহার হাত ধরে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির বইমেলা চূড়ান্তভাবে শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। ১৯৮৪ সালে চূড়ান্ত নামকরণ করা হয় ” অমর একুশে গ্রন্থমেলা”। ভাষা শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা” স্থান করে নেয় বাঙালির মননে। শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতি বছর ১লা ফেব্রুয়ারি বইমেলা উদ্বোধন করে আসছিলেন মহাসমারোহে। তার আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার প্রধানগণ যথারীতি পহেলা ফেব্রুয়ারিতে বই মেলায় বাঙালির প্রাণ সঞ্চার করে আসছিলেন।
বইমেলাকে ঘিরে শত শত প্রকাশনীর হাজার হাজার প্রকাশনা। ফেব্রুয়ারি মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে নতুন বইয়ের পসরা। নতুনের ঘ্রাণ।
এ পেশার সাথে জীবন ও জীবিকা নির্বাহের লাখো মানুষ আজ বঞ্চিত তথাকথিত মৌলবাদ ও ফ্যাসিস্ট আস্ফালিত সরকারের কাছ থেকে। লেখক, প্রকাশক সবার মনে ক্ষোভের সঞ্চার। হচ্ছে না প্রাণের বইমেলা। আজ ফাঁকা বাংলা একাডেমির মাঠ, ফাঁকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
বাঙালির মনে একটাই প্রশ্ন, আবার কবে ফিরে পাবো আমাদের প্রাণের বইমেলা। কবে ফিরে আসবে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপি অমর একুশে বইমেলা!
তাই তো শিরোনাম করেছি : –
স্তব্ধ বাংলা ভাষা আজ গুমরে কাঁদছে – তেমনি কবিতার ভাষায় লিখছি :
“ইতিহাস ক্ষমা করবে না” :
শ্বাশত সহজ সবুজ
সে পথ অবরুদ্ধ সংকটে
থাকছে না নিরাপত্তা
লাল-সবুজের দৃশ্যপটে
খুন রাহাজানি করে যাচ্ছে
প্রতিদিন প্রতিক্ষণ
নির্দয়মনে করছে ভীতিসঞ্চার
আতংকিত মানুষজন
পথেঘাটে লাশ আর লাশ
বাড়িঘরে অগ্নি ভস্ম ছাই
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
দেশের কোথাও আজ নাই
পাপ, সে ঘৃণার অচ্ছুৎ প্রমাণ
রাষ্ট্রের ফাঁকফোকরে
দায়মুক্তির লোভের দৌড়
অন্যায়ের পথ ধরে
ক্ষমতা দখল, সে ডিজাইন
প্রভুদেশ গুলোর সিদ্ধান্ত-মতে
ভাড়ুয়া কাজের মুনাফালোভীরা
আছে তো বহাল তবিয়তে
নীলাকাশের নীচে গাছের ছায়ায়
হিংস্র স্বভাব, দেশপ্রেমিক বেশে
সেই মেটিকুলাস রাজনীতি
চলছে তো চলছে, এ দেশে
স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে
সাড়াশব্দহীন বেদনার্ত মাটি
কে আছেন রুখে দাঁড়াবার
বিদ্রোহী বীর, দেশপ্রেমিক খাঁটি
কে আছেন দেশপ্রেমে উদ্বেলিত
মমতার মাটি, মানচিত্র ছায়া ভূমি
কার বুকের বাংলাদেশ
বটের মায়া, সে শেকড়ে চুমি
অন্তহীন অপেক্ষার পথে
শতদ্রু রক্তের প্রপাত
রাজনীতির মাঠে হানাহানি
চতুর্দিকে সংঘাত
মব ভায়োলেন্স
আজব নীতির নগ্ন দুঃশাসন
ইতিহাস ক্ষমা করবে না কোনোদিন
শুনে রাখুন হে মহাজন।
